আমার প্রথম গল্পের গল্প: যেভাবে একটি ফেসবুক পোস্ট আমার প্রথম লেখা প্রকাশ করেছিল

হ্যালো বন্ধুরা,

আজ আমি তোমাদের সাথে আমার একটি খুব বিশেষ স্মৃতি শেয়ার করতে চাই। প্রতিটি যাত্রারই একটি শুরু থাকে, আর একজন লেখক হিসেবে আমার যাত্রার শুরুটা হয়েছিল ঠিক এখান থেকেই।

এটি আমার জীবনের প্রথম লেখা গল্প, “খরগোশ ঘাস খাবে”। যখন এটি প্রকাশিত হয়, তখন আমার বয়স ছিল মাত্র ৪ বছর ৯ মাস। কিন্তু এটি কীভাবে প্রকাশিত হলো, সেই গল্পটাই আমার সবচেয়ে প্রিয়!

সবকিছুর শুরু হয়েছিল যখন আমি আমার মায়ের মোবাইলে ভয়েস টাইপিং ব্যবহার করে গল্পটি তৈরি করি। আমার মাথায় তখন অনেক ভাবনা আসছিল, কিন্তু আমি তখনও অত দ্রুত লিখতে বা টাইপ করতে পারতাম না। আমার মা, যিনি নিজেও একজন অসাধারণ লেখিকা, গল্পটি খুব পছন্দ করেন এবং গর্বিত হয়ে সেটি তার ফেসবুকে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করেন।

এরপর যা ঘটল তা ছিল এক দারুণ চমক। আমার মায়ের একজন বন্ধু, জাজাফি (Zazafee) আঙ্কেল, ফেসবুকে পোস্টটি দেখতে পান এবং গল্পটি তার কাছে বিশেষ কিছু মনে হয়। তিনি আমার গল্পের ওপর এতটাই বিশ্বাস রেখেছিলেন যে, তিনি নিজ উদ্যোগে গল্পটি দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় পাঠিয়ে দেন।

যখন গল্পটি সত্যিই বিখ্যাত “কচি-কাঁচার আসর” বিভাগে ছাপা হলো, আমি তো বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না! একটি সত্যিকারের জাতীয় পত্রিকায় আমার নিজের নাম এবং গল্প ছাপা অক্ষরে দেখার সেই অনুভূতি আমি কখনোই ভুলব না। ওটা ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে উত্তেজনার দিন!

এই ঘটনাটি আমাকে বিশ্বাস জুগিয়েছিল যে আমার ভাবনাগুলোও শেয়ার করার মতো মূল্যবান। এটি আমাকে আরও লেখার অনুপ্রেরণা দিয়েছিল, যার ফলস্বরূপ আমি আমার নিজের বই “আরিয়েত্তির ছোট্ট ছোট্ট গল্পেরা” প্রকাশ করতে পেরেছি।

এই অভিজ্ঞতা আমাকে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ জিনিস শিখিয়েছে: নিজের কাজ শেয়ার করা এবং পাশে থাকার মতো বন্ধু পাওয়া একটি জাদুকরী ব্যাপার। আমি কৃতজ্ঞ যে আমার মা আমার গল্পটি শেয়ার করেছিলেন এবং জাজাফি আঙ্কেল সেটির ওপর বিশ্বাস রেখেছিলেন।

এই স্মৃতি আমাকে সবসময় মনে করিয়ে দেয় যে প্রতিটি বড় স্বপ্নের শুরু হয় একটি ছোট ভাবনা দিয়ে… এবং কখনও কখনও, একজন বন্ধুর একটুখানি সাহায্য দিয়ে।

আমার এই স্মৃতির গল্প পড়ার জন্য তোমাদের ধন্যবাদ!

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *